মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

উপজেলার ঐতিহ্য

বাংলা ভাষায় রচিত ও ডাঃ দীনেষ চন্দ্র সেন সম্পাদিত ও প্রকাশিত লোক সাহিত্যে “ময়মনসিংহ গীতিকার”উৎস্য ভূমি হলো বৃহত্তর ময়মনসিংহের ভাটি অঞ্চল তথা কিশোরগঞ্জ জেলার পূর্বাঞ্চল। কুলিয়ারচর কিশোরগঞ্জ জেলার একটি সমৃদ্ধ জনপদ। কুলিয়ারচর উপজেলা লোকসাহিত্যে সমৃদ্ধ। লোক ঐতিহ্য হলো পুঁথি, কবিগান, বাউলগান, জারীগান, মুর্শিদীগান, নৌকাবাইচ ইত্যাদি। এছাড়া ও ফরিদপুরের মাজার, চন্ডিতলা, কুলিয়ারচর জামে মসজিদ, মহারাজা ত্রৈলোক্য নাথ চক্রবর্তী বাড়ি, অষ্টমীমেলা, রামদির গোসাই আখড়া, কুলিয়ারচর দাস্পাড়া কালীবাড়ী, নাজিরদিঘী পুকুর ইত্যাদি।

পুঁথি গানঃ-  প্রাচীন কাল থেকে এই অঞ্চলে পুঁথি ও কবি গানের আসর বসত। বিভিন্ন উৎসব ও বিশেষ দিনে। কুলিয়ারচর উপজেলার বিখ্যাত পুঁথি পাঠক ছিলেন আগরপুর বাগপাড়া গ্রামের আব্দুল মালেক। তিনি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পুঁথি পাঠ করে সুনাম অর্জন করেছেন। তাছাড়া আরো যারা পুঁথি পাঠ করে সুনাম অর্জন করেছেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন হারিয়ারকান্দির ওয়াছ মিয়া, আলিম উদ্দিন। এদের জনপ্রিয় পুঁথিগুলো হলো- গাজী কালু চম্পাবতী, গফুর বাদশা, সাইফুল মুলক বদীউজ্জামান।

বাউলগানঃ-  বাউলগান এই এলাকার একটি জনপ্রিয় গানের অনুষ্ঠান। বিশেষ করে শীতকালে এলাকার বিভিন্ন গ্রামে বাউল গানের অনুষ্ঠান হয়। কুলিয়ারচর এর বিখ্যাত বাউল গায়ক হলেন আগরপুরের মোঃ মুক্তার উদ্দিন। এই বাউল গায়ক সিলেট, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, রংপুর, দিনাজপুর সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গস্ন গেয়ে প্রচুর সুনাম অর্জন করেছেন। তিনি প্রায় দুইশত গান লিখেছেন।

জারী গানঃ- জারী গান হলো কয়েকজন শিল্পির এক সাথে দলবেধে এক সাথে গান গাওয়া। এই এলাকার জনপ্রিয় জারী গান হলো মহরমের গান। এখনও প্রতি বছর মহরমের ১৯ তারিখ বিভিন্ন গ্রামে জারী গান হয়ে থাকে।

মুর্শিদী গানঃ- কুলিয়ারচর উপজেলার বিভিন্ন মাজারে ওরস উপলক্ষে মুর্শিদী গান হয়ে থাকে।একদল সংসার ত্যাগী ফকিরা এই গান গায়। ফরিদপুর, ছয়সূতী, আদমখারকান্দি মাজারে বার্ষিক ওরসে মুর্শিদীগানের আসর বসে থাকে।

নৌকা বাইছ প্রতিযোগিতাঃ-- কুলিয়ারচর উপজেলায় প্রচীন কাল থেকেই নৌকা বাইছ প্রতিযোগিতা একটি জনপ্রিয় অনুষ্ঠান হিসাবে পরিচিত হয়ে আসছে। প্রতি বছর বর্ষাকেলে কালী নদীতে এই জনপ্রিয় অনুষ্ঠান হয়। উছমানপুর ইউনিয়নের চন্ডিতলা হতে ছয়সূতী ইউনিয়নের মাধবদী পর্যন্ত প্রায় ০৭ কিলোমিটার এলাকা নিয়ে এই নৌকা বাইছ প্রতিযোগিতা হয়ে থাকে।

কুলিয়ারচরের মিষ্টিঃ-  কুলিয়ারচর উপজেলার মিষ্টির খ্যাতি প্রায় যুগ যুগ ধরে। এখানকার জিলাপী, সন্দেশ, রসগোল্লা, আমিত্ত, মোহনভোগ, রাজভো্‌ রহমঞ্জুরী ইত্যাদি আজও প্রায় সমান। আগরপুর মিষ্টির ব্যবসা এখনও খুব জমজমাট।

এলাকার খাদ্য ও ভোজন বিলাসঃ- বাংলাদেশের সমস্ত বাঙ্গালীদের মত কুলিয়ারচর বাসীর প্রধান খাদ্য ভাত মাছ হলেও বর্তমানের টানাপোড়ানের যুগে এলাকাবাসীকে তাজা মাছের পরিবর্তে শুকনো মাছের উপর বেশি নির্ভরশীল হতে হয়েছে। অতীতে এই এলাকায় নানা রকম মাছে সমৃদ্ধ ছিল। তখন জনসংখ্যা কম থাকায় জলাশয় থেকে পর্যাপ্ত মাছ পাওয়া যেত। এখনো মেঘনা নদীর মাছ এলাকার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ও বিদেশে ও রপ্তানী করা হয়।